দরিদ্র জনগোষ্ঠির কল্যাণে ব্লকচেইন গড়তে চায় রৌপ্যজয়ী টিম ডিজিটাল ইনোভেশন
কেবল রোহিঙ্গা ইস্যুতেই নয়, দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান প্রথম আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন প্রতিযোগিতায় রৌপ্যজয়ী দল- টিম ডিজিটাল ইনোভেশন।
এই দলের সদস্যরা বলছেন, বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে ব্যাবহারযোগ্য এই প্রযুক্তিটি দরিদ্র জনগোষ্ঠির কল্যাণে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র বিকাশে অবদান রাখবে। সরকারের সহযোগিতা পেলেই ব্লবচেইন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে টেকসই সমাধান দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
আজ ডিজিবাংলার সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন টিম ডিজিটাল ইনোভেশনের চার উদ্ভাবক।
উদ্ভাবক দলের প্রধান কামরুল হাসান বললেন, “আমাদের সিলভার মেডেলটা দেশ ও দেশের জনগণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। এখন সময় এসেছে আমাদের রৌপ্যজয়ী প্রকল্পটি শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, দেশের জনগণের জন্য, দরিদ্র-নিপীড়িত মানুষের জন্য প্রয়োগ করার। আর মহামারীর সময়ে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত এই প্রযুক্তি ব্যবহারে এক্ষেত্রে আমরা সফল হবো।”
প্রকল্পে কোডিং কাজ করা নওশাদ হোসেইন বললেন, ”সরকারই শুধু নয়, সরকারি কাজের স্বচ্ছতা সংশ্লিষ্ট সকল কাজই এই ব্লকচেইনে খুব ভালো কাজে দেয়। ব্লচেইন নিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে চাই। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই।”
দেশে ব্লকচেইনের ব্যবহার এখনো সেভাবে শুরু না হলেও এই প্রযুক্তি দিয়েই বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রকল্পের প্রোটোটাইপ নির্মাতা রেদোয়ান খান অনিক। “অনেক জায়গায় প্রথমবারের মতো হয়তো ইউজ হয়নি এই টেকনলোজি। নতুন এসেছে। আমরা চাচ্ছি এটি রেগুলারাইজ করতে অ্যাজে লিডার এ্যনথুজিয়াম, তাহলে হয়তো এই টেকনলোজিটিতে হেডস্টার্ট দিতে পারবো”- বলছিলেন অনিক।
অবশ্য এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ব্লকচেইন বিষয়টির ওপর এখনি কোর্স আকারে প্রশিক্ষণ শুরু ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দলের আরেক সদস্য কামরুল হাসান অনিক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার বিষয়ে পড়ালেখা করেন। এখানে ব্লকচেইন বিষয়ে কোনো কিছু শেখানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে সেমিনার ও কোচিং দেয়া যেতে পারে।
মালোয়েশিয়া থেকে স্নাতক অর্জন করে দেশে ফিরে ব্লকচেইন প্রযুক্তির উন্নয়নে নিবেদিত অনিকের সঙ্গে এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে লিডস টেকনলোজিতে কর্মরত এই অপর তিন উদ্ভাবকও। কেননা বছর খানেক আগে এদের সবাই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক হলেও কর্মজীবনে এসেই ব্লকচেইন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। উদ্ভাবিত টুলসটির পেটেন্টও করতে যাচ্ছেন তারা।